রাজাকারের তালিকা পোড়ালেন মুক্তিযোদ্ধা

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ  সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তালিকার একটি কপিতে অগ্নিসংযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা তপন কুমার চক্রবর্তী।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল জেলা বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ফকিরবাড়ি রোডের কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে বাসদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর তপন চক্রবর্তী ও তার মেয়ে এবং বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তী একযোগে রাজাকারের তালিকায় অগ্নিসংযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বিজয় দিবসের ৪৮ বছরে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এক ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো আমাদের। আমার বাবা তপন চক্রবর্তী একজন সর্বজন পরিচিত গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং ঠাকুরদা সুধীর কুমার চক্রবর্তী মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে শহীদ হন। আমার বাবাকে রাজাকারের তালিকায় ৬৩ নম্বর এবং আমার ঠাকুর মা ঊষা রানী চক্রবর্তীকে ৪৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা শুধু একটি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের সাথেই নয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষের জন্যই একটি লজ্জাজনক ঘটনা।”

মনীষা এই তালিকা তৈরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে বরিশালে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তপন চক্রবর্তী বলেন, “স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর রাজাকারের তালিকায় আমার এবং আমার মা ঊষা রানী চক্রবর্তীর নাম এসেছে। এতে আমি খুবই মর্মাহত এবং কিছু বলার নেই। এটা দেখার চেয়ে আমার মরে যাওয়া ভালো ছিল।”

তপন কুমার চক্রবর্তী আরও বলেন, “আমার বাবা সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ১২ আগস্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাসা থেকে তুলে নিয়ে ওয়াপদা বধ্যভূমিতে হত্যা করে। পরিবারকে তার লাশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।”

“বাবার মৃত্যুর পর আমি সেপ্টেম্বর মাসে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে যাই। অক্টোবর মাসে দেশে ফিরে ৯নং সেক্টরের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বরিশাল জেলায় সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটে মুক্তিযোদ্ধাতের তালিকায় আমার নাম প্রকাশিত হয়,” বলেন তপন কুমার।