বনানীতে চীনা নাগরিক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: ৫:১২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানীর বনানীতে চীনা নাগরিক গাও জিয়ানহুই (৪৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের নাম আব্দুর রউফ (২৬) ও এনামুল হক (২৭)। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে এ-ব্লকের ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর বাড়ির পেছনের দেয়াল ও সীমানা প্রাচীরের ফাঁকা জায়গায় অর্ধেকটা শরীর মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় গাও জিয়ানহুইয়ের লাশ পাওয়া যায়। ১০ তলা বাড়িটির ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তিনি।

তদন্তকারীরা জানান, গাও জিয়ানহুইয়ের ফ্ল্যাটে জিনিসপত্র তছনছ করা হয়নি। তাঁর অফিস কক্ষে জুতার ওপর কয়েক ফোঁটা রক্ত ও কয়েকজনের ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লিফটে করে লাশ নামিয়ে বাড়ির পেছনে পুঁতে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বাড়িটির সিসি ক্যামেরা দেড় মাস ধরে বিকল থাকায় কোনো আলামত মেলেনি। নিহতের গাড়িচালক সুলতান, বাড়ির ম্যানেজার, গৃহকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, চীনের হুজিয়ান শহরের বাসিন্দা গাও জিয়ানহুই কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে আছেন। দেড় বছর ধরে বনানীর ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ তাঁর স্ত্রী প্রায়ই বাংলাদেশে এসে তাঁর সঙ্গে থাকতেন। গাও জিয়ানহুই ১৭-১৮ বার চীনে আসা-যাওয়া করেছেন। সর্বশেষ গত ৭ ডিসেম্বর তিনি চীন থেকে আসেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের ঢাকায় আসার কথা।

ডিসি সুদীপ আরো জানান, গাও জিয়ানহুই আগে উত্তরায় থেকে গার্মেন্টের লেইস সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরে তিনি ব্যবসা বাড়িয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ব্যবসা রয়েছে। এই চীনা নাগরিক ইংরেজি ও বাংলা বলতে পারেন না। তাঁর একজন দোভাষী ছিল। বাসায় কিছু চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশিকে মাঝেমধ্যে নিয়ে এলেও তারা কেউ বাসায় থাকতেন না।