কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পেয়ে যা বললেন নওফেল

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ হাসিনাকে সভাপতি ও ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল থেকে শনিবার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আংশিক ঘোষিত কমিটিতে নাম আসেনি শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের। ২০১৬ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ব্যারিস্টার নওফেল সর্বকনিষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে নওফেল। তার রাজনীতির শুরুটা হয়েছে চট্টগ্রামের মাটিতে বাবার পাশে থেকেই। রাজনীতির মাঠের বাইরে মহিবুল হাসান ঢাকা বারের আইনজীবী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিরও সদস্য এবং বেসরকারি টেলিভিশন বিজয় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর শনিবার ও রোববার ফেসবুকে নিজের মত প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। স্ট্যাটাস দুইটি  হুবহু তুলে ধরা হলো-

ব্যারিস্টার নওফেল রোববার ফেসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশের অভিভাবক, আমাদের এই বিশাল আওয়ামী পরিবারের অভিভাবক, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সময় কাল ভেদে আমাদেরকে একেকটি রাজনৈতিক দায়িত্ব একেক সময় বন্টন করেন। কখনো দলের, কখনো সরকারের, আবার কখনো কর্মী হিসেবে দলের প্রচারণার জন্য দায়িত্ব দেন। যখন যেই দায়িত্ব তিনি দেবেন, সেটা পালনই আমাদের কাজ। আমি এখন সংসদ সদস্য, আবার শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত। নেত্রী তিন বছর আগে সাংগঠনিক সম্পাদক করেছিলেন। এখন এই সরকারি দায়িত্ব দিয়েছেন, আবার সিদ্ধান্ত নিবেন ভবিষ্যতে, যা সেই সময় প্রয়োজন হবে সেটা বিবেচনায়। আবার অন্য কেউ আসতে পারে যে কোনো কাজের জন্য। শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকে আমাকে বলছেন এই অপেক্ষা, বৃহৎ কিছু, ইত্যাদি।

আপনাদের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমাদের এই বিশাল পরিবারে আমাদের মাতৃতূল্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নানান ভাবে নানান জনকে বিবেচনায় নিতে হয়। অনেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলছেন এই চাওয়া, সেই পাওয়া, অনেক আকাঙ্খার কথা, ইত্যাদি। আমি আপনাদের বলবো দয়া করে এইসবের চাইতে দেশের মানুষের জন্য আমি আপনি কি করতে চাই, কিভাবে তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করতে পারি, কিভাবে আপনার আমার নিজের পেশা, বৃত্তি বা ক্ষেত্রে নিজেকেও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে, দেশকে এগিয়ে দিতে পারেন এই চিন্তা করা আমাদের উচিৎ। আমাদের রাজনৈতিক জ্ঞান চর্চা আর স্বীয় পেশাগত উন্নয়নে কাজ করতে হবে, যদি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে চাই।

রাজনীতি কোনো অর্থনৈতিক বা পেশাগত সম্পদ নয় যাতে শুধুই প্রমোশন হয় আর স্থায়ী কাজ বা দায়িত্ব থাকে। রাজনীতি কোনো বৃত্তি নয়, এটি একটি আদর্শিক চেতনার জায়গা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশ কে এগিয়ে দিতে, যার যার জায়গা থেকে আমাদের সক্রিয় হতে হবে, নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে সেই আদর্শিক অবস্থান থেকে, কে, কি, দায়িত্বে আছি সেটা বড় কথা নয়।’

এর আগে শনিবার দলের পুনর্র্নিবাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছবি যুক্ত করে ফেসবুক আরেকটি স্ট্যাটাস দেন ব্যারিস্টার নওফেল। তিনি লেখেন, ‘অভিনন্দন ও শুভ কামনা, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দলের ২১তম সম্মেলনে নির্বাচিত হয়ে এই দলকে আবারো পথ দেখিয়ে যাবেন, আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর। প্রিয় নেত্রীর যোগ্য সিপাহসালার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জননেতা ওবায়দুল কাদের, আপনাকেও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ৬৯ বছরের ইতিহাসে অন্তত একবার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দলের জন্য কাজ করতে পেরেছি, এটাই পরম তৃপ্তি। এখন নতুন সংসদ দায়িত্ব নেবে, এগিয়ে যাবে আমাদের দল। একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আছি, থাকবো, আমৃত্যু। জননেত্রী শেখ হাসিনা মানেই এই দল, এই দেশ। প্রিয় নেত্রী যতদিন রবে আপনার হাতে এই দেশ, পথ হারাবেনা বাংলাদেশ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা।’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান সরকারের চার মন্ত্রী আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। তবে আংশিক ঘোষিত কমিটিতে নাম আসেনি মন্ত্রিসভার আট সদস্যের। তারা আগের কমিটিতে বিভিন্ন পদে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সভাপতি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে পুননির্বাচিত হয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক নতুন কমিটিতেও সভিপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এদিকে দলের বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির পদধারী ও বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করছেন এমন পাঁচ নেতা নতুন আংশিক কমিটিতে স্থান পাননি। তারা হলেন, বিদায়ী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এছাড়া বিদায়ী কমিটির অর্থ সম্পাদক ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহম্মদ আবদুল্লাহও নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হননি। অবশ্য এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যেসব পদে ছিলেন, সেই পদে এখনও কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। এই পদগুলো এখনও শূন্য রয়েছে।