শ্রীপুরে সমাজসেবা অফিসে অনিয়ম,সরকারি সহায়তা বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।

প্রকাশিত: ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ প্রিন্ট করুন
আফজাল হোসেন(নিজস্ব প্রতিবেদক)-  গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নুরুল ইসলাম (৭০) স্থানীয় সমাজ সেবা অফিস ও ব্যাংকে আড়াই বছর ঘুরেও তার চেক ভাঙ্গতে পারেননি। সমাজসেবা অফিসে এর কারণ জানতে চাইলে তার সঙ্গে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্বব্যবহারের অভিযোগ করেন তিনি। খারাপ আচরণ শুধু নুরুল ইসলামের সাথেই নয়,গত কয়েকবছর ধরেই অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেবা নিতে আসা লোকজনদের সাথে করে যােেচ্ছন নিয়মিত, এমন অভিযোগ করছেন সেবাপ্রার্থীরা।
১১০৭৫হিসাব নম্বর ধারী নুরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০১৮সালের ৯ আগষ্ট এবং ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ইস্যূকৃত শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে বয়স্কভাতার দুইটি চেক পেয়েছেন তিনি। এ সময়ে তার ওই চেকের টাকা তুলতে ৭বার সমাজসেবা অফিস আর স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে যোগাযোগ করেও টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংকে গেলে কর্মকর্তারা বলেন সমাজসেবা অফিসের তালিকায় তার পাস বইয়ের তথ্যের গড়মিল থাকা তাকে টাকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সমাজসেবা অফিসে ওই তথ্য ঠিক করে দিতে বললে ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার সঙ্গে দূর্ব্যবহার করেন।
রোববার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নানা সমস্যার কারণে প্রায় অর্ধশত বৃদ্ধ/বৃদ্ধা হৈচৈ করছেন, ভিড় করছেন। স্থানীয় কেওয়া (পূর্ব) এলাকার রমিজাসহ রহিমা দূর-দূরান্ত থেকে বয়স্ক ব্যক্তিরা সকালে গিয়ে তাদের সমস্যা সমাধান করার কথা বললে বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। কারো কারো জোর করে অফিস থেকে বের করে দিচ্ছে ওই অফিসে কর্মরত সমাজকর্মী আমিনুল ইসলাম ও মো. নাসির উদ্দিন।
এসময় শ্রীপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাও অফিসে ছিলেন না।
সুবিদাভোগীদের ভাষ্যমতে,তারা বয়সের ভারে নুহ্য হয়ে পড়ছেন। সরকারী এই সহায়তার জন্য তাদের সমাজসেবা অফিসে আসতে হয়। কাজের সময় এখানে আসলে নূন্যতম ব্যবহারও পাওয়া যায়না। বয়স্ক ,অসহায়, সমাজের হতদরিদ্র মানুষগুলোর সাথে যেন পশুর মত আচরণ করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম ৩বছরের অধিক সময় এখানে কর্মরত রয়েছেন, তাকে অধিকাংশ সময় অফিসে পাওয়া যায় না। একই ভাবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আছেন সমাজকর্মী নাসির উদ্দিন। গত ছয় মাস আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই যেন আরো বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছেন। নাসির ও আমিনুলের বাড়ী শ্রীপুরে হওয়ায় তারা উভয়েই সমাজসেবা অফিসে সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। এই অফিসের একমাত্র অফিস সহায়ক শেখ ফরিদ অফিসে নিয়মিত হাজির না হয়েও নিয়মিত বেতন ভাতা নিচ্ছেন।
জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এসএম আনোয়ারুল করিম জানান, শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম রোববার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সোমবার আমি নিজে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব এবং কারো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।