দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭

প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে অশান্তির আগুনে জ্বলছে ভারতের দিল্লি। দিল্লির মৌজপুর, ব্রহ্মপুরী, ভজনপুরা চক, গোকুলপুরী ছাড়িয়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ছে নগরীর আনাচে কানাচে। সহিংসার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দিল্লিতে সহিংস ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭। আহত হয়েছে প্রায় ২৫০ জন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, বুধবারের সহিংসতায় নিহত হয়েছে আরও ১১ জন। এই নিয়ে দিল্লিতে নিহতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৭।

মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কিছু এলাকায় জারি করা হয় দেখামাত্র গুলি করার বা ‘শুট অ্যাট সাইট’-এর নির্দেশ। পরিস্থিতি বুঝে ওই এলাকায় বুধবার দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। বন্ধ এলাকার সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলও।

এদিকে দিল্লি হাইকোর্ট সহিংসতা সংক্রান্ত শুনানিতে জানিয়েছে, রাজধানীতে আরেকবার ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা হতে দিতে পারি না। প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা একান্ত প্রয়োজন। শাহিনবাগ মামলার শুনানিতে নাটকীয়ভাবে দিল্লি হিংসা নিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানান বিচারপতি কৌল ও যোশেফ। নজিরবিহীনভাবে মঙ্গলবার রাত পৌনে দুটো পর্যন্ত দিল্লি হিংসা নিয়ে মামলার শুনানি হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি এস মুরলিধরের বাড়িতেই চলে শুনানি। দিল্লি পুলিশকে বিচারপতি এস মুরলিধর ও বিচারপতি এ জে ভমম্বানী বেঞ্চের নির্দেশ, অবিলম্বে মুস্তাফাবাদের ছোট হাসপাতাল থেকে দিল্লি হিংসায় জখমদের বড় হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দিল্লি পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা।

রাজধানীর উত্তর-পূর্ব এলাকায় হিংসার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪, জিটিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ১৪৪ ধারা জারি করা সত্ত্বেও চাঁদবাগ এলাকায় নতুন করে আগুন লাগানোর এবং পাথর ছোড়ার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে, গতকাল সিএএ-বিরোধী ধর্নার কেন্দ্রস্থল জাফরাবাদ রোড খালি করে দেয় দিল্লি পুলিশ।

সহিংসতার ঘটনা বাড়ার সাথে সাথে জোরদার হচ্ছে দিল্লিতে সেনা মোতায়ানের দাবি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তির ডাক দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।