স্ত্রী সন্তানকে ফেলে রেখে নাবালিকাকে বিয়ে করলো প্রবাসী।

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০ প্রিন্ট করুন

আফজাল হোসেন (নিজস্ব প্রতিবেদক): গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ফেলে রেখে তের বছর বয়সী এক নাবালিকাকে বিয়ে করেছে কাজিমউদ্দিন নামক এক দুবাই প্রবাসী।

কাজিমউদ্দিন মাওনা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চিলমারী গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,কাজিম উদ্দিন ২০০৭ সালে একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেতজুঁড়ি গ্রামের তাঁরা মিয়ার মেয়ে আকলিমা  আক্তার কে বিয়ে করেন।

অভাবের সংসারে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করতো তারা।তার মধ্যেই আবার ঘর আলো করে এলো এক কন্যাসন্তান।তার কিছুদিন পর ২০১০ সালে  ভাগ্য বদলের উদ্দেশ্যে কাজিমউদ্দিন পাড়ি জমায় স্বপ্নের শহর দুবাইয়ে।

কাজিমউদ্দিনের স্ত্রী আকলিমা আক্তারের ভাষ্য,দীর্ঘ্য নয় বছর প্রবাস জীবন শেষে তার স্বামী গত বছরের মার্চে ৬ মাসের ছুটিতে দেশে ফিরেন।তারপরই ঘটতে থাকে অঘটন।কাজিমুদ্দিন প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাত অবদি ফুলবাড়িয়া বাজারে তার ভগ্নিপতি আলমগীরের দোকানে আড্ডা দিত ।সেখানে ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া সাদিয়া আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক  গড়ে তুলেন।আর ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিদেশ চলে যাওয়ার আগে ভগ্নিপতি আলমগীরের সহযোগীতায় তের বছর বয়সী সাদিয়াকে বিয়ে করেছে বলে জানা যায়।

আকলিমা আক্তার আরও জানান,তার স্বামী দেশে আসার পর দ্বিতীয় বারের মত তিনি গর্ভধারন করেন।তার স্বামী চলে যাওয়ার পর গত ডিসেম্বরে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।কিন্তু এখন বাচ্চার দুধ ও নিজের ঔষধ কেনার অর্থ যোগান দিতে হিমশীম খাচ্ছেন তিনি।শুনেছি সাদিয়াকে কিছুদিন আগে দুবাই নিয়ে গেছেন।

সাদিয়ার মা জোসনা আক্তার জানান, কাজিমুদ্দিন আমার মেয়েকে উচ্চ স্বপ্ন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে দুবাই নিয়ে গেছে।এখন জানতে পেরেছি তার আগেও সে একটি বিয়ে করেছে।মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে এখন তিনি চিন্তিত।

এ ব্যাপারে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকন জানান,কাজিমউদ্দিনের প্রথম স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল।কাজিমুদ্দিন বিদেশ থাকায় তার ভাসুর কামালকে পারিবারিকভাবে এব্যাপারটা সমাধান করতে বলেছিলাম।