গাজীপুরে একই ঘরে বাবা-মা আর সন্তানের লাশ

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০ প্রিন্ট করুন

আফজাল হোসেন(গাজীপুর)- গাজীপুর মহানগরের পানিশাইলের সোনালী পল্লী এলাকার একটি ঘর থেকে মঙ্গলবার সকালে স্বামী-স্ত্রী ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান।

নিহতরা হলেন- মোশারফ হোসেন (২৮), তার স্ত্রী হোসনে আরা (২২) ও মেয়ে মোহিনী (২ মাস)। তাদের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ফকির টরি এলাকায়।

বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী রেশমা জানান, দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায় সোনালী পল্লীতে সাদেক আলীর বাড়ির একটি ঘরে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন মোশারফ। সোমবার রাতে ঘরেরর ভেতরে মোশারফ গাঁজা সেবন করছিলেন। স্ত্রী হোসনে আরা তাকে ঘরের ভেতরে গাঁজা সেবন করতে বারণ করেন। এনিয়ে রাতে তাদের মধ্যে কলহ হয়। এক পর্যায়ে সোমবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা । মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকেও তাদের ঘরের দরজা না খোলায় প্রতিবেশিরা তাদের ডাকাডাকি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ তাদের ডাকাডকির পরও কোনো সাড়া শব্দ না ঘরের জানালা দিয়ে মোশারফকে ঝুলে থাকতে এবং মা-মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তারা কাশিমপুর থানা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতওে ঢুকে আড়ার সঙ্গে গলায় কাপড় পেঁচানো মোশারফের ঝুলন্ত লাশ এবং বিছানায় তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পায়।

নিহত হোসনে আরার ভাই মো. হাসান জানান, মোশারফ হোসেন রাজমিস্ত্রিীর জোগালী (সহকারির) কাজ করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় নেশা করতেন। হাতে টাকা না থাকলে ঘরের বিভিন্ন জিনিস-পত্র বিক্রি করে গাঁজা-ইয়াবা কিনে খেতেন।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান জানান, নিহতদের ঘরের ভেতরে বিষের আলামত পাওয়া গেছে। ঘরের ভেতরে বিষের দূর্গন্ধ, বমি ও বাচ্চার দুধের ফিডার-বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানকে কৌশলে বিষ পান করিয়ে হত্যার পর স্বামী গামছা গলায় পেঁচিয়ে আড়ার সঙ্গে ফাঁস ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।