মুন্সিগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে বেঁতশিল্পের ঐতিহ্য।

প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২০ প্রিন্ট করুন

জাহাঙ্গীর আলম চমক(ষ্টাফ রিপোর্টার) : সিরাজদিখান উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বেতের তৈরি পণ্যের কদর আর তেমন নেই বললেই চলে। আর একারণে হারাতে বসেছে বেত শীল্পের ঐতিহ্য।

মানুষ এক সময় গৃহস্থালী ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেঁত দিয়ে তৈরি পন্য ব্যবহার করতো। এমনকি বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বেঁতের তৈরি আসবাবপত্র। বর্তমানে আধুনিক পন্য সহজলভ্য হওয়ায় বেঁতের পন্যের ব্যবহার তেমন চোখে পরে না। তাছাড়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য দ্রব্যের পণ্য টেকসই ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ায় মানুষের চোখ এখন সেগুলোর ওপর।

অন্যদিকে এ শিল্পটিকে ধরে রাখতে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বেত। এখন আর আগের মতো বাড়ীর আশপাশে বেতলতা দেখা মেলেনা। সেগুলো কেটে ফেলে চাষাবাদসহ বাড়ী ঘর তৈরী করে বসবাস করছে মানুষজন। তাই কাঁচামাল আর আগের মতো সহজেই পাওয়া যায় না। আর একারণেই ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে শিল্পটি।

এক সময় গ্রামাঞ্চলে বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থালী ও সৌখিন পণ্য সামগ্রী। বাড়ির পাশের ঝাড় থেকে তরতাজা বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এসব পন্য নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি, বাজারে বিক্রিও করতেন তারা। বর্তমান সময়ে বেতের তৈরী খোল, চাটাই, খোলুই, ধামা, টোনা, পালল্টা, মোড়া,দোলনা, বুক সেল্ফ কদাচিৎ চোখে পড়া যেনো ভাগ্যের ব্যাপার! তারপরও কিছু সংখ্যক মানুষ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বেত শিল্পকে আঁকড়ে ধরে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাজানগর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে দেখা মিলে আধুনিক যুগে বেত শিল্পকে টিকিয়ে রাখার চিত্র। এ গ্রামের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার তাদের পৈতিক সূত্রে পাওয়া শিল্পটিকে আকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। গ্রাম এলাকায় বেতের কাঁচামাল না থাকায় দেশের বিভি অঞ্চল থেকে বেত কিনে এনে তারা তৈরি করছে বেতের নানা ধরনের পন্য। আর এসব পন্য তৈরির পর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। তবে বেতের তৈরি পন্যের আগের তুলনায় দাম কমে যাওয়ায় ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্প।

উপজেলার মনিপারার বেত শিল্পী যতীন কুমার দাস বলেন, দ্বীর্ঘদিন ধরে বেত শিল্পের সাথে জড়িত তিনি। ১৯ শতকে বেতের ব্যবসা ভালো ছিলো। এখন ১০/১৫ বছর ধরে বেত না পাওয়ায় এই ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। বেতের মূল্য বেশি থাকায় তারা বেতের মালামাল বিদেশে পাঠাতে পারছেন না। তাই তারা সরকারী সহযোগীতা চাচ্ছেন।

উপজেলার মনিপারার আরেক বেত শিল্পী হৃদয় চন্দ্র দাস বলেন, ছোট বেলা থেকে এ পেশায় আছেন তিনি । একটা সময় বছরে আয় হতো লক্ষ টাকার মতো। বর্তমানে আয় বলতে কিছুই থাকে না তার।