করোনায় বন্ধ হয়নি ব্যতিক্রমী শিশু চিকিৎসক শাহজাহান এর চিকিৎসা সেবা।

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০ প্রিন্ট করুন
dav

আফজাল হোসেন(নিজস্ব প্রতিবেদক)- ঢাকা শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহজাহান। শিশু হাসপাতালে দায়িত্বের ফাঁকে সপ্তাহের ২দিন (সোমবার ও শুক্রবার) গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনায় শিশুদের চিকিৎসা দেন।

করোনার আতঙ্কে শ্রীপুরের প্রায় অর্ধশত হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন ব্যক্তিগত ভাবে রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করে দিলেও তিনি এখনো বন্ধ করেননি তার এই সেবা দেয়ার কাজ।

তার মতে, রোগী বিশেষ করে মা ও শিশুদের কথা ভেবেই তিনি তার ব্যক্তিগত ভাবে রোগীদের সেবা বন্ধ করেননি। অন্তত শিশুদের বেলায় না দেখে দূর থেকে চিকিৎসা দেয়া যেমন সম্ভব নয়,তেমন ভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা অনুচিত। ওষুধ প্রয়োগে সাবধান না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে শিশুর। তাই এ সময়কালে বিশেষ করে শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।

তার অভিমত, সংক্রামক ব্যাধি সহ নানা নানাধরনের হুমকীর কথা ভেবেই তিনি চিকিৎসা পেশায় নিজেকে জড়িয়েছেন। দেশের দুর্যোগকালীন সময়ে পেছপা হওয়ার কোন সুযোগ নেই এ পেশার লোকজনের,বরং দিনের সময়কে আরো বেশী ব্যবহারের সুযোগ নিতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্যতম চিকিৎসার বিষয়টি।

তিনি আরো জানান ,শিশুরা এ সময় আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারনে সাধারন ভাইরাল সমস্যা সর্দি জ্বর ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র অজ্ঞাতবসত এগুলোকে করোনার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। এসব উপস্বর্গ নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে গেলে তারা রোগীদের ভিন্ন চোখে দেখেন, শিশুদের অভিভাবক ও রোগীরা নানা ভাবে বিব্রত বোধ করেন। এতে সাধারনত শিশু সহ রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখান থেকে চিকিৎসকদের মানসিকতা পরিবর্তন করে সকল চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহবান তার। কেননা এ সময় যদি চিকিৎসকরা নিজেদের গুটিয়ে নেন তাহলে দেশের মানুষ কি করবে,তাদের গাইডলাইন কে দেবে? একমাত্র চিকিৎসকদের গাইডলাইনের দিকে চেয়ে আছে দেশের মানুষ।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকরাই সাম্প্রতিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত আমাদের দেশে আঘাত হানা করোনার যুদ্ধের একমাত্র সৈনিক। চিকিৎসকদের এখন ঘরে থাকার সময় না,শুধু সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে বরং নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করার সময় এখন। যারা করোনার ভয়ে ব্যক্তিগত ভাবে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে এ চিকিৎসকের বার্তা করোনার এ যুদ্ধে ঠিকই জয়ী হবে আমাদের দেশ,কিন্তু দুর্যোগে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে এসময় পর কিভাবে ফের চেম্বার করবেন বিষয়টা এখনই ভেবে দেখার সময় সেসব চিকিৎসকদের।

চিকিৎসক শাহজাহান ১৯৮৯ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে সার্জারীতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে ঢাকা শিশু হাসপাতালে সার্জারী বিভাগের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখন্ড গ্রামে জন্ম তার। স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা সেবার দেয়ার লক্ষ্যে তিনি মাওনায় স্বদেশ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি একটি বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র্রও গড়ে তুলেছেন।