করোনার থাবায় ভালো নেই পোলট্রি খামারীরা,দেখার নেই কেউ।

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২০ প্রিন্ট করুন

আফজাল হোসেন (নিজস্ব প্রতিবেদক):করোনা সংক্রমনে গাজীপুরে পোলট্রি শিল্পে চরম সংকট তৈরী হয়েছে। বাজার তৈরীর অভাবে উৎপাদিত ডিম ও মাংসের উৎপাদন খরচ না উঠে নিম্নগামী হওয়ায় প্রায় মাসখানেক ধরে লোকসান গুনছেন খামারীরা। এ কয়েকদিনেই বহু ক্ষুদ্র খামারীরা সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হলেও তারা পাশে পাচ্ছেন না কাউকে ।

গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এমন হাহাকারের চিত্র দেখা গেছে।

গাজীপুর পোলট্রি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির দেয়া তথ্য মতে, জেলার ৫টি উপজেলায় পোলট্রি খামার রয়েছে ৭২০০। এসব খামারের সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় ২০হাজার লোক। খামারীদের মধ্যে অধিকাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারী ধরনের। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে নিজেদের স্বর্বস্ব দিয়ে খামার পরিচালনা করে আসলেও করোনা সংকটের সাথে আর পেরে উঠতে পারছেন না তারা। অতীতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় তারা সরকার হতে তেমন প্রনোদনা পাননি। এখন পর্যন্ত খামারীরা তাদের সহায়তার কোন ধরনের নির্দেশনা পাননি। ফলে লোকশান দিয়েই খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন তারা।

খামারীদের দেয়া তথ্য মতে,বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে একজন খামারীর খরচ ৫ টাকা ৭০পয়সা হলেও ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ৪টাকায়। আবার ১কেজি বয়লার মাংস উৎপাদন খরচ ১”শত টাকা হলেও বিক্রি করা যাচ্ছে ৮০ টাকায়। উৎপাদন খরচের সাথে একদিকে যেমন উৎপাদিত পন্যের মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না তেমনি বিভিন্ন এলাকা লকডাউনের কবলে থাকায় ভোক্তা পর্যন্ত পন্যের যোগান দেয়া যাচ্ছে না। গাজীপুরে উৎপাদিত অধিকাংশ ডিম ও মাংস রাজধানী ও নারায়নগঞ্জে সরবরাহ হলেও উক্ত দুই স্থানে করোনার সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ভয়ে সেসব এলাকায় যেতে সাহস পাচ্ছে না।

শ্রীপুরের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের নাজমুল হক বলেন, তিনি ধার দেনা করে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগীর বাচ্চা তুলেছেন। শেড সহ তার সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। যখনই বিক্রির উপযুক্ত সময় তখনই দেশে করোনার সংক্রমন ছড়িয়ে পরে। পরে তিনি চার লাখ টাকায় মুরগী বিক্রি করেন। এতে তার লোকশান হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। এখনতো তার পথে বসার উপক্রম।

একই অবস্থা একই গ্রামের আবুল হাসেমের তিনি জানান, তার এলাকায় ক্ষুদ্র খামার রয়েছে প্রায় অর্ধশত। এটাই ছিল তাদের একমাত্র সম্বল। করোনায় লোকশানে অন্যান্য খামারীদের সাথে তিনিও লোকশানে ডিম উৎপাদনের মুরগী বিক্রি করে দিয়েছেন। মুরগী বিক্রির টাকায় খাবারের টাকাই শোধ হয়নি। এখন শূন্য হাতে গৃহবন্দী,ঘরে খাবার পর্যন্ত নেই, এসময় কাউকেও পাশে পাচ্ছেন না তারা।

কাওরাইদ গ্রামের তোতা মিয়া জানান, তার ১ হাজার মুরগী সবেমাত্র ডিম উৎপাদনে এসেছিল কয়েকদিনের লোকশানে তিনি দেড়শ টাকা করে প্রতিটি মুরগী বিক্রি করে দিয়েছেন। যদিও প্রতিটি মুরগীর পিছনে তার খরচ হয়েছিল সাড়ে চারশত টাকা। অবস্থা এমন ছিল কয়েকমাস লোকশান দেয়ার ক্ষমতা তার নেই। সব হারিয়ে এখন সরকারের খাদ্য সহায়তার পেছরেন ঘুরছেন,যদিও তা মিলছে না।

পোল্ট্রি খামার মালিক সমিতির শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মতিন জানান, শ্রীপুরেই রয়েছে ২৪০০’শত খামার। গত কয়েকদিনের লোকশানে অর্ধেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। পথে বসেছে কয়েক হাজার লোক। বিভিন্ন সময় সরকারী প্রনোদনা এসব ক্ষুদ্র খামারী পর্যন্ত পৌছে না। প্রান্তিক এই খামারীদের বাঁচাতে দ্রুত সরকারের উদ্যোগ নেয়ার দাবী তার ।

বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সভাপতি খন্দকার মহসিন জানান,দেশের মানুষের প্রানিজ প্রোটিনের অন্যতম যোগানদাতা এই পোলট্রি খামার। বর্তমানে করোনার প্রভাবে ভোক্তা পর্যন্ত উৎপাদিত পন্য যোগান দেয়া যাচ্ছে না। খামারী পর্যায়ে ডিম ও মাংস সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন লোকশানে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খামারীরা বিপর্যয়ে পড়েছেন। প্রান্তিক খামারীদের রক্ষায় দ্রুত সরকারের আশু পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি। অন্যথায় বিপর্যয়ে পড়বে পোলট্রি শিল্প।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা দিপক রঞ্জন রায় জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোলট্রি শিল্প অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও করোনার কারনে এখন অনেকটা দুঃসময় যাচ্ছে খামারীদের। করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের সহায়তা করার মত কোন সরকারী সিদ্ধান্তের চিঠি এখনো আসেনি। তবে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানিয়েছি।