শ্রীপুরে খাবার সংকটে কাঁদছে বানরগুলো।

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২০ প্রিন্ট করুন

আফজাল হোসেন(নিজস্ব প্রতিবেদক): গাজীপুরের ব্যবসা বানিজ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ এলাকা শ্রীপুরের বরমী। কথিত আছে শীতলক্ষার তীরবর্তী এই বাজারে নিয়মিত ভাবে ব্যবসায় কল্যানে অবাধ বিচরণ ছিল বার্মার ব্যসায়ীগনের। তাদের মাধ্যমে প্রায় দুই শতাব্দিকাল আগেই এই বাজারে মানুষের সাথে সাথে আস্তানা গড়ে তুলে বন্যপ্রাণী বানর।

দীর্ঘদিন ধরে বাজারের দোকান হতে তাদের খাবারের সংস্থান হলেও এবার করোনায় লকডাউনে দোকান পাট বন্ধ থাকায় খাবার সংকটে পড়ছে বরমীর প্রায় সহশ্রাধিক বানর।

খাবারের অভাবে অভূক্ত বানরের কান্না যেন বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বাজার এলাকায় বানর দলবেধে চলাচল করে, কখনও নদীর ধারে আবার কখনও দোকানের টিনের ছাদে সর্বত্রই এদের দেখা মেলে।বন্যপ্রাণী হলেও বন না থাকায় সামাজিক ভাবে এরা বাজারের বিভিন্ন
মানুষের বাসা বাড়ী বা দোকানের বিভিন্ন পরিত্যাক্ত স্থানে, বা গাছে আস্তানা গেড়েছে। বুদ্ধিমান প্রানী হিসেবে বানরের পরিচিতি রয়েছে বেশ।

এরা নিরামিশভোজি হলেও এদের বাসস্থান বা খাবারে বেশ বৈচিত্র রয়েছে। বিভিন্ন দোকান হতে তাদের চাহিদামত খাবারের ব্যবস্থা করতে হতো। অন্যথায় তাদের অত্যাচার বেড়ে যেত। নানা দিন বিবেচনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীগন এই বানরের খাবারের যোগান দিয়ে আসছে বছরের পর বছর। তবে এবার করোনার কারনে বাজারের দোকানপাট থাকে বন্ধ তাদের চাহিদামত খাবারেরও ব্যবস্থা হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার জানান, এই এলাকার বানরদের নিয়মিত খাবারে যোগান দেয়া না হলে এরা বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে অত্যাচার শুরু করে। খাবারের অভাবে এই প্রাণী বিলীন হয়ে
যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে বিগত ২০১৭ সালে নভেম্বরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ৫টন খয়রাতী সাহায্য দিয়ে খাদ্য সহায়তা শুরু করেন।

এসময় বানরের খাবারের জন্য ১’শ টি কলাগাছ রোপন করা হয়। যদিও পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ ২ বৎসর ধরে এই তহবিল হতে সপ্তাহে দুই দিন বানরকে খাবার হিসেবে রুটি কলা দেয়া হত। ১বৎসর হলো এই তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভাবে আর বরাদ্ধ না আসায় এখন খাবার দেয়া যাচ্ছে না। এর পর থেকে স্থানীয় দোকানদার ও বানর দেখতে আসা পর্যটকদের দেয়া সামান্য খাবারে কোনভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রন করে আসলেও করোনার কারনে বাজার লকডাউনে থাকায় এখন আর খাবার
মিলছে না।

বাদল সরকার আরো জানান,তিনি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে বেশ কিছুদিন বানরের খাবারের ব্যবস্থা করলেও এখন করোনার কারনে ঘরবন্দি সাধারন মানুষকে সহায়তা দিতে হচ্ছে। তাই ইচ্ছে থাকার পরও তিনি এ মুহুর্তে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী রিপন সাহা জানান,লকডাউনে বাজারের ব্যবসা প্রায় মাসখানেক ধরে বন্ধ। তবে দোকান সংলগ্ন নিজের বাসায় বসে খাবারের জন্য বানরের কান্না শুনতে পান। অভূক্ত এই প্রাণীদের দেখে তার মায়া হয়, তিনি নিজে দুই দিন যৎসামান্য কলা রুটি কিনে বানরদের দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এই এলাকায় মানুষ ও বানর একসাথে বসবাস করে আসলেও এখন অসহায় হয়ে পড়ছে বানরগুলো।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজল তালুকদার জানান,এ মুহুর্তে বানরের খাবার সহায়তা দেয়ার মত কোন বরাদ্ধ আমাদের নেই। তবু প্রাণী বলে কথা, তাই
প্রকৃতি থেকে খাবারের কোন ব্যবস্থা না থাকা ও করোনর প্রভাবে অভূক্ত থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।