খুলনা মেডিকেলে আরও দু’জনের দেহে করোনা শনাক্ত

প্রকাশিত: ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২০ প্রিন্ট করুন
হিরন্ময় সরকার, কয়রা (খুলনা)  উপজেলা প্রতিনিধিঃ
খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিনে নমুনা পরীক্ষায় দু’জনের শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার দিঘলিয়ার একজন, অপরজন বাগেরহাটের কচুয়া এলাকার বাসিন্দা। গতকাল রবিবার ১৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার ৬৯ টি নমুনা ও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ১০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে খুলনার দিঘলিয়ার সেনহাটি এলাকার ঠিকানায় পলি খাতুন (৩১) এবং বাগেরহাটের কচুয়া এলাকার বাসিন্দা রাণী বেগম (২৬)। এ নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিনে মোট ৩০ জন করোনা রোগী সনাক্ত হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় পলি খাতুন (৩১)। স্বামী মতিনকে নিয়ে গতকাল ভোরে পিকআপ যোগে খুলনার দিঘলিয়া সেনহাটি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক বাড়িতে এসেছিলেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারে গিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে বেলা ১১টার দিকে আবারও ঢাকায় চলে যান। তবে পলির এক আত্মীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানিয়েছে পলি কয়েকদিন ঢাকায় পরীক্ষা করাতে ব্যর্থ হয়ে খুলনায় এসে পরীক্ষা করিয়ে আবার ঢাকায় চলে গেছেন। পলির বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীচরে। একটি চুড়ি তৈরির কারখানায় কাজ করেন পলি খাতুন।
পলির সাথে ঢাকা থেকে একই সাথে তার আত্মীয় তানিয়া (২৬) নামে আরও একজন এসেছেন, যদিও তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
সেনহাটি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মিন্টুর নেতৃত্বে তানিয়ার বাড়িতে তালা মেরে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হুমায়ূন কবীর বলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা সংলগ্ন এলাকায় রানী বেগম (২৬) গত শুক্রবার ঢাকা থেকে আসেন। সাথে সাথে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়। গতকাল (শনিবার) তার নমুনা খুলনা মেডিকেল এ পাঠানো হলে আজ (রবিবার) পজেটিভ আসে। রানী বেগম চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস এ চাকুরি করেন। সেখান থেকে ঢাকা হয়ে তিনি বাগেরহাটে আসেন।
মৃত্যু : খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে খাদিজা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনি মারা গেছেন।
ওই ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডাঃ শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কিডনি, ডায়বেটিসসহ নানা সমস্যা নিয়ে শনিবার) রাত ৯টার দিকে ভর্তি করা হয় খাদিজাকে। রবিবার ভোরে তিনি মারা যান। তার বাড়ি মহানগরীর টুটপাড়া এলাকায়। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা জানার জন্য তার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।