ঘূর্ণিঝড় আস্ফানের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে দূর্ঘটনায় নিহত-৪

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতের আগেই ভোলা, চট্টগ্রাম, বরগুনা ও পটুয়াখালীতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশনে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ছিদ্দিক ফকির (৭০) দক্ষিণ আইচা এলাকার বাসিন্দা।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, সকালে ওই বৃদ্ধ বয়স্ক ভাতা আনার জন্য ভাড়া করা মোটরসাইকেলে উপজেলা সদর চরফ্যাশনের দিকে যাচ্ছিলেন।

“এ সময় ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শোভন কুমার বসাক জানান, ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনার পর তার শ্বাসকষ্ট দেখা যায়; মাথায়ও গুরুতর আঘাত ছিল। অক্সিজেন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে বরগুনার সদর উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র যাওয়ার পথে এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ‘অসুস্থ হয়ে’ মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন একজন জনপ্রতিনিধি।

উপজেলার এম বালিয়াতলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ সেলিম জানান, তার ইউনিয়নের পরীরখাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে শহীদুল ইসলাম (৬৪) নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

শহীদুল ওই এলাকারই বাসিন্দা, পরীরখাল বাজারে একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “শহীদুল আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে হৃদরোগে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, “শহীদুল আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তার পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে।”

অপরদিকে বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. সালাউদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে সন্দ্বীপ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

সালাউদ্দিন সন্দ্বীপ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হোনাজীর বাড়ির আবুল কাশেমের পুত্র।

জানা যায়, সালাউদ্দিন নতুন চরে গবাদিপশুর জন্য উড়কি ঘাস কাটতে যান। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে জোয়ারের পানি ও স্রোত বেড়ে যায় এবং একপর্যায়ে সালাউদ্দিনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

অপর দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্নিঝড় আম্ফানের সতর্কতামূলক প্রচারনা চালাতে গিয়ে নদীতে নৌকা ডুবে শাহআলম মীর (৫৫) নামের এক সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবক নিখোঁজ হয়েছে। বুধববার সকাল দশটার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের হাফেজ প্যাদার খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শাহআলম মীর লোন্দা গ্রামের মৃত সৈয়দ কদম আলীর পুত্র বলে জনা গেছে।

স্থানীয় ও উপজেলা ঘূর্নিঝড় প্রস্তুত কর্মসূচি অফিস সূত্রে জানা যায়, সে ঘূর্নিঝড় আম্ফানের সতর্কতামূলক প্রচারনা চালানোর জন্য হাফেজ প্যাদার খালের একপার থেকে অপর পাড়ে যাচ্ছিছেলন। এসময় বাতাসের চাপে নৌকাটি ডুবে যায়। তার সাথে থাকা চাচাতো ভাই আরোব আলী মীর ও নিখোঁজ সিপিপিকর্মী ছোট ছেলে সিয়াস সাতরে তীরে ওঠে।কিন্তু শাহআলম মীর নিখোঁজ হয়। তাকে উদ্ধারে জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসসহ উপজেলা প্রশাসন।
কলাপাড়া ঘূর্নিঝড় প্রস্তুত কর্মসূচির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে আমিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৌছেছি। ফারাস সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।