ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ির সামনে লাশ ফেলে পালানোর চেষ্টা, আটক ১, মৃত্যু রহস্যজনক

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০ প্রিন্ট করুন

মোঃশামীম উদ্দিন (ঈশ্বরদী প্রতিনিধি)( ৬ জুন) শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রুপপুর আখ সেন্টারের কাছে পাবনার দিক থেকে আসা একটি এ্যাম্বুল্যান্স থেকে তড়িঘড়ি করে জহুরুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যাক্তির লাশ ফেলে পালানোর সময় নিয়ামত আলী (৪২) নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করেছে স্হানীয় লোকজন। আটককৃত

ঈশ্বরদীর মুশুড়িয়া পাড়ার বাসিন্দা নিয়ামত আলী পাবনার পাথরতলা থেকে এম্বুলেন্সে করে লাশ এনে মৃত জহুরুলের পৈত্রিক বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। মৃত জহুরুল নতুন রুপপুর আখ সেন্টার এর নিকটবর্তী স্হায়ী বাসিন্দা শাহদত ইসলামের ছেলে। তার প্রথম স্ত্রী শারমিন খাতুন সাথী ১ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করে। অন্যদিকে জহুরুল ছোট বউ শান্তনা ও তার গর্ভের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্হানে বাসা ভাড়া করে থাকতো। সর্বশেষ জহুরুলের অবস্থান ছিল পাবনার পাথর তলায়। এখান থেকেই জহুরুলের লাশ এম্বুল্যান্স ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়। আটক নিয়ামত এক প্রশ্নের জবাবে পাথরতলার জনৈক ব্যাক্তির নির্দেশে লাশ পৌঁছে দিতে এসেছে বলে জানায়। ওদিকে প্রায় ঠিক একই সময়ে জহুরুলের ছোট বউ শান্তনা ছেলে মেয়ে ভাইসহ একটি মাইক্রোবাসে করে তার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া থেকে জহুরুলের পৈত্রিক বাড়িতে এসে পৌছায়। পাবনার পাথরতলার জনৈক ঐ একই ব্যাক্তি শান্তনাকেও জহুরুলের মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে তাদেরকে রুপপুর আসতে বলে। সে মোতাবেক তারা তড়িঘড়ি করে রুপপুর এসে পৌছায়। তবে জহুরুলের মৃত্যুর বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায়। এদিকে জহুরুলের গলায়, কানের নীচেসহ বিভিন্ন স্হানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারন এসংবাদ লিখা পর্যন্ত জানা না গেলেও রহস্যজনক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, জহুরুল মাদক সিন্ডিকেট এর সাথে জড়িত ছিল। ব্যাবসায়ীক দন্দের কারনে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে পারে।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ বাহা উদ্দিন ফারুকী বিপিএম পিপিএম জানিয়েছেন, জহুরুলের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনসহ , আমরা আইনগত সকল ব্যাবস্হা গ্রহণ করবো। ইতিমধ্যেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এর জন্য জহুরুলের লাশ ময়নাতদন্তের ব্যাবস্হা করা হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ির সামনে এভাবে লাশ ফেলে পালানোর ঘটনা টক অবদা টাউনে পরিনত হয়েছে।