নাজিরহাটে “এহসান এস বাংলাদেশ” এনজিও’র নামে গ্রাহকদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো মাওলানা ছলিমুল্লাহ

প্রকাশিত: ১:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০ প্রিন্ট করুন

কামাল পারভেজ(চট্টগ্রাম):”এহসান এস সোসাইটি” নামে মাল্টিপারপাস কোম্পানির মাধ্যমে সহস্রাধিক সাধারণ গ্রাহকদের পাঁচ কোটিরও অধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত মাওলানা ছলিমুল্লাকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরবিয়া নছিরুল ইসলাম নাজিরহাট (বড় মাদ্রাসার) মুহতামিম (পরিচালক) হিসেবে নিয়োগ দিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বৃহত্তর ফটিকছড়িবাসীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ইউসুফ আনছারী।

বক্তব্যে ইউসুফ আনছারী বলেন, ১০৭ বছরের ঐহিত্যবাহী এ মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ইদ্রিস সদ্য প্রয়াত হলে মাদ্রাসার বিতর্কিত শিক্ষক ছলিমুল্লাহ কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেকে মুহতামিম দাবি করে জোরপূর্বক মাদরাসা পরিচালনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সে নিয়মানুযায়ী শূরা (নীতিনির্ধারণী) বৈঠক আয়োজনে বাঁধা এবং শূরা সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকিও প্রদান করছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই মাওলানার বিরুদ্ধে বর্তমানে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগে ৭ টি মামলা বিচারাধীন। ইতিপূর্বে তাকে অর্থ কেলেঙ্কারির কারণে মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দিয়েছিল শূরা বোর্ড। নিয়ম মেনে যোগ্য ব্যক্তিকে মুহতামিম নিয়োগের দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

বড় মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাটহাজারী এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মাওলানা ছলিমুল্লাহ গত প্রায় ২০ বছর যাবৎ মাদ্রাসার রশিদ বই দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি হতে এবং কুয়েত ও দুবাইয়ের বিভিন্ন প্রবাসী হতে মাদ্রাসার ফান্ড গঠনের নামে বিশাল অংকের টাকা সংগ্রহ করে মাদ্রাসার ফান্ডে জমা না দিয়ে তা নিজেই আত্বসাৎ করেন।এছাড়াও ১৭/১১/১৪১৯ হিজরী হতে ১১/০৬/১৪৩৯ হিজরী পর্যন্ত মাদ্রাসার হিসাব অনুযায়ী ২৮টি রশিদ বইয়ের কোন হিসাব না দেয়ায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গত বছর ৭ জুন, ২০১৯ইং তারিখে শিক্ষক ছলিমুল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে ছলিমুল্লা উল্টো প্রিন্সিপালকে ভয়ভীতি ও হুমকী দেয়। এছাড়াও, ২৬ জুন ২০১৯ইং তারিখে ছলিমুল্লাহ স্বশরীরে, তার ছেলে মো: হাবিবুল্লাহ, জামাতা বর্মা কাদের এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীসহ হাতে লোহার রড নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আতংক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সকলের সামনে উত্তেজিত কন্ঠে প্রিন্সিপালকে প্রণনাশের হুমকী দেয়। পরে সহকারী প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতী হাবিবুর রহমান কাশেমী বিষয়টি সুরাহা করার জন্য প্রিন্সিপালকে মাদ্রাসায় আসতে অনুরোধ করেন। প্রিন্সিপাল অনুরোধ রক্ষা করে বিকাল ৩ টায় মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে মাওলানা ছলিমুল্লাহ তার ছেলে ও জামাতা বর্মা কাদের এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রিন্সিপালকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।