সারফেস ওয়াটার প্রকল্পে ‘দিনে ঢাকায় পৌঁছাবে ৫০ কোটি লিটার পানি’

প্রকাশিত: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২১ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা,ঢাকাঃ ‘সারফেস ওয়াটার’ বা নদীর পানিকে পরিশোধন করে পান উপযোগী করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। যা ঢাকার উত্তরা, গুলশান, বনানী ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে। ২০২৩ সালে ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালী সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প’ নামে এ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকায় পৌঁছাবে।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা ওয়াসা’র গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের নির্মাণকালের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯-এর সময়ে তারা কাজ করেছে। আমি নিজে এবং আমার মন্ত্রণালয়ের সবাই কাজ করেছে। আমি তাদের নির্দেশ নিয়েছি। তারা কাজ করেছে। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

প্রকল্প ব্যয় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প ব্যয় বাড়ার কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। ২০১৩ সালে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সে প্রকল্প ২০২০ সাল পর্যন্ত এসেছে। এসময়ের মধ্যে অনেক জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। ফলে প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ে।

২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এক্ষেত্রে কাল ক্ষেপণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। ব্যয় যদি বাড়ে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও উদ্দেশ্য প্রণদিতভাবে যদি কিছু করা হয়, তাহলে এটা ক্ষমা করা হবে না।

প্রকল্পটি ঢাকার এত দূরে এ প্রকল্প নিয়ে আসার কারণে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার আশাপাশের মধ্যে এখানকার পানি সব থেকে ভাল।

রাজধানীর অভিজাত এলাকার বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধা বেশি। তুলনামূলক কম উন্নত এলাকায় অনেক সুবিধাই নেই। আবার নগরের উচ্চবিত্ত ও উচ্চআয়ের মানুষের ট্যাক্সের পরিমাণ বেশি, দরিদ্র মানুষের ট্যাক্সের পরিমাণ কম। এ ধারণা থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম মনে করেন, সকল এলাকায় পানির দাম একই থাকা যৌক্তিক নয়।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, যাদের আয় কম তাদেরকে কম ট্যাক্স দিতে হয়। যাদের আয় বেশি, তাদের বেশি ট্যাক্স দিতে হয়। এই ধারণা থেকে পানির বিল সব জায়গায় যদি সমান হয়… গুলশানে যে বসবাস করে সেখানে অনেক বেশি সুবিধা। কিন্তু দরিদ্র এলাকায় বসবাসকারীদের সুবিধা কম। কিন্তু দুই এলাকার পানির বিল এক। এটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না। সব জায়গায় পানি দাম একই হবে কেন?

এসময় অন্যদের মধ্যে ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান, প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আবুল কাসেম, প্রধান প্রকৌশলী কামরুল হাসান, ডিরেক্টর টেকনিক্যাল শহিদ উদ্দিন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।