একজন মুক্তিযোদ্ধা ও শ্বাসরুদ্ধকর ৬৫ বছর!

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২ প্রিন্ট করুন

২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে নতুন মানচিত্র গড়ে নেয়ার যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ৷ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে অংশ নেয়া একজন বীর সেনা আব্দুর রহিম।তিনি ১৯৫৭ সালে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । দেশকে ভালোবেসে জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।তার চোখে মুখে শুধু একটাই নেশা ছিলো, তা হলো বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করে বিজয়ী বেশে ফেরা।

১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে দেয়া হয়। বীর সেনা আব্দুর রহিম ৩ নং সেক্টরঃ সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ এ সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।তিনি ঢাকা অংশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন এবং কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

আব্দুর রহিম ছেলেবেলা থেকে খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার পুরো জীবনটাই যেন একটি সংগ্রাম। হয়তো কারও আশ্বাস বা কারও প্ররোচনায়,কখনো ভয় আবার কখনো হতাশায়।তবুও থামেনি জীবন।হতাশা ও নিরাশায় তিনি নামি-দামি কয়েকটি ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরী করে কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের মূল্যবান ৩৫ বছর।যার স্বাক্ষী তিনি নিজেই।

তিনি জীবনে সুখি হতে চেয়েছিলেন,সুখ পেতে নয়।তিনি জানতেন সুখ পাওয়া যায় কিন্তু সুখি হওয়া যায়না। তাই স্ত্রী সন্তানদের দূরে রেখে শহরের বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে নাড়ির টানে ছুটে এসেছেন গ্রামের এক নিবৃতপল্লীতে যে মাটিতে শুয়ে আছেন উনার বাবা,মা।এখানেই কাটছে তার অলস সময়।

অবসর সময় কাটানোর জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন,গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সবচেয়ে স্বনামধন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আল-হেরা হাসপাতালকে।তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীদের উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আল-হেরা হাসপাতালকে উচ্চমানের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌছে দিতে তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিমের সাথে কথা বললে তিনি তার জীবনের শেষ ইচ্ছের কথা বর্ণনা করেন। নিজস্ব অর্থায়নে একটি বৃদ্ধাশ্রম করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।যেখানে অবহেলিত মানুষজন জীবনের শেষ সময়টুকু পরিবার পরিজন ছাড়াই হাসিমুখে কাটাতে পারবেন।তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

এমন একজন মহান দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার হার না মানা ৬৫ বছরের জীবন সংগ্রামই বলে দেয় উনি একজন বীর সেনা,একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন আব্দুর রহিম।

আফজাল হোসেন
লেখক ও সাংবাদিক।