শ্রীপুরে আল-হেরা হাসপাতালে মানবিক ডায়ালাইসিস সেবা।

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২২ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা,গাজীপুরঃ গাজীপুরের বেসরকারি হাসপাতাগুলোর মধ্যে আল-হেরা হাসপাতাল অন্যতম।সম্পূর্ণ সেবার মানসিকতা নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে শ্রীপুরের প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তায় এই হাসপাতালটি তাদের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অভিজ্ঞ নার্সদের তত্বাবধানে ২০২১ সালের মে মাসে হাসপাতালটিতে ডায়ালাইসিস বিভাগ চালু করা হয়েছে।

এখানে প্রতিদিন তিন শিফট এ ১৮ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। কোন রকম ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে সেবা নিচ্ছেন কিডনি বিকল রোগীরা সেই সাথে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পাচ্ছেন খাবারও।

এ বিষয়ে শ্রীপুরের সাতখামাইর এলাকার কিডনি রোগী রনি হোসেন (২৩) মহানগর বার্তাকে বলেন, আল-হেরা হাসপাতালে আসার পূর্বে আমি ঢাকার মগবাজারের একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস করাতাম।যাওয়া-আসা সহ দু’টি ডায়ালাইসিস করাতে আমার সপ্তাহে প্রায় বারো হাজার টাকা খরচ হতো। তাছাড়া ডায়ালাইসিস করানোর পর দূর্বল শরীর নিয়ে আসতেও খুব কষ্ট হতো।আল-হেরা হাসপাতালে এখন আমি সপ্তাহে দুই দিন স্বল্প খরচে ডায়ালাইসিস নিচ্ছি,শরীরটাও এখন আগের চেয়েও অনেক ভালো।

কিডনি রোগী মুসলেহ উদ্দিন (৩২) ডায়ালাইসিস সেবা নিতে তার স্ত্রীর কাঁধে ভর করে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি জানান,বছর দুয়েক হলো তার কিডনির ক্রিয়েটিনিন এর পরিমান বেড়ে ১৮ তে দাড়িয়েছে। একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে উনি ডায়ালাইসিস করানোর কথা বলেন। একথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। তিন বেলা খাবার যেখানে ঠিকমতো খেতে পারিনা,টাকার অভাবে ছোট্র মেয়েটিকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না,সেখানে ডায়ালাইসিস কিভাবে করাবো। জীবনে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে ছুটে আসি আল-হেরা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন স্যারের কাছে। তিনি প্রথমদিকে শুধুমাত্র খরচের টাকাটা রেখে আমাকে ডায়ালাইসিস করানোর অনুমতি দেন।তারপর যখন আমি সেই টাকাও দিতে পারছিলাম না তখন উনি নিজের পকেট থেকে আমার চিকিৎসার সমুদয় খরচ দিয়ে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।উনার জন্যই এই পর্যন্ত আমি বেঁচে আছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

শ্রীপুরের প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তায় ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আল-হেরা হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে একক প্রচেষ্টায় হাসপাতালের অবকাঠামো ও সেবার পরিধি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করে চলছেন। হাসপাতালটিকে সয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতালে পরিনত করতে ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছে জাপানি ফুজিফিল্ম ব্রান্ড এর ৩২ স্লাইস এর সিটিস্ক্যান মেশিন। দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা এখান থেকে স্বল্প খরচে সেবা নিতে পারছেন।

আল-হেরা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন জানান হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সূচনার কথা,তিনি বলেন যখন আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি হই তখন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের কষ্ট দেখে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যেত।মনে হতো যদি আমার এলাকায় চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হয়তো কোন রোগীকে এত কষ্ট করে দূরে আসতে হতো না। সেই থেকে মনে মনে সংকল্প করি একটি হাসপাতাল স্থাপন করবো।

আল-হেরা একটি পবিত্র গুহার নাম যেখানে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছিলো। আমিও আমার নিজের সততা,মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে আল-হেরা হাসপাতালের সুনাম রক্ষার জন্য হাসপাতালে আগত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চেম্বারে রোগী দেখি। আমার স্ত্রী গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ মরিয়ম আক্তার(এমবিবিএস,বিসিএস,এফসিপিএস,এমসিপিএস)নিজের অফিস শেষ করে আল-হেরা হাসপাতালে গভীর রাত পর্যন্ত সেবা দিচ্ছেন। সিজারিয়ান অপারেশন সহ গাইনী সকল ধরনের অপারেশনও তিনি করে থাকেন।

ডাঃ মরিয়ম আক্তারের দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিমাসে অনেক রোগী সিজার ছাড়াও নরমাল ডেলিভারীর মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করে থাকেন।
মহামারী করোনার সময় যেখানে সকল হাসপাতাল তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো সেই ক্রান্তিকালেও আমি এবং আমার সহধর্মিনী ডাঃ মরিয়ম আক্তার আমাদের ঘরে ছোট্র শিশু বাচ্চাকে রেখে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। করোনায় আক্রান্ত হয়েছি কয়েকবার,তবু চিন্তা করেছি মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি কামনায় রোগীদের সেবার কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে আল-হেরা হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগটি গাজীপুর জেলার মধ্যে সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমানে ডায়ালাইসিস বিভাগটি আমি ভর্তুকি দিয়ে পরিচালনা করছি। তারপরও অসহায় মানুষের সেবায় ক্রমান্বয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে ডায়ালাইসিস বিভাগটি সাজানো হবে বলে জানান তিনি।