শ্রীলঙ্কা এখন ভারতের বলয়ে

প্রকাশিত: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২২ প্রিন্ট করুন

মহানগর বার্তা ডেস্কঃ অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় গত কয়েক মাস ধরে চলা গণ আন্দোলনে রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আসছিলেন বিক্ষোভকারীরা; তারা আওয়াজ তুলছিলেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধেও।

বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যাচ্ছিল- ‘ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশ বিক্রি করবেন না’, ‘শ্রীলঙ্কা ভারতের অঙ্গরাজ্য নয়’। ভারতের নেতাদের উদ্দেশে তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন- ‘শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির সুযোগ নেবেন না’।

বিবিসি লিখেছে, ‍এরকম ভারতবিরোধী মনোভাব শ্রীলঙ্কায় এখনও আছে, তবে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা আর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যেই ভারত নিয়ে শ্রীলঙ্কার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হয়ত বদলে যাচ্ছে।

বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার খালি হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরেই ব্যাপক সংকটে ভুগছে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধসহ নিত্যপণ্যের ঘাটতির কারণে গত মার্চ থেকে জনরোষ বাড়ছিল।

জুলাইয়ের শুরুতে সেই জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটলে দেশ থেকে পালিয়ে পদত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। তার আগে তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে, সেচমন্ত্রী চমল রাজাপাকসে, মাহিন্দার ছেলে ক্রীড়ামন্ত্রী নমল রাজাপাকসে ও চমলের ছেলে কৃষিমন্ত্রী শশীন্দ্র রাজাপাকসেও মন্ত্রিপরিষদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন গত কয়েক মাসে।

তামিল টাইগারদের সঙ্গে তিন দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় স্থিতাবস্থা ফিরিয়েছিল রাজাপাকসে পরিবার। অনেকের চোখে, এ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন জাতীয় বীর।

গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমদানি পণ্যে শুল্ক কমানো, কর প্রত্যাহার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা চালুর মত জনতুষ্টির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতে উৎপাদন কমে আর্থিক টানাপড়েনে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঝুঁকতে হয় বিদেশি ঋণের দিকে।