গাজীপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরে দালালদের দৌরাত্ম বন্ধে গণমাধ্যমের করণীয় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ প্রিন্ট করুন

আরিফুল ইসলাম খোকা (গাজীপুর):গাজীপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কেন্দ্র করে দালালদের দৌরাত্ম বন্ধে গণমাধ্যমের করণীয় বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টায় গাজীপুর এনভাইরনমেন্ট জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন’র উদ্যোগে ভার্চুয়ালি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সভায় এসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ সালমান, সমন্বয়ক (সার্বিক) আবুল হোসেন সবুজ, গাজীপুর মহানগরের সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম, শ্রীপুরের সমন্বয়ক মো: আফজাল হোসাইন অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দালালদের উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তৎপরতা এবং উচ্চ আদালতের চাপে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ছাড়পত্র পেতে পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুর কার্যালয়ে ভিড় করছেন। আর এই সুযোগেই আশেপাশে ওৎ পেতে থাকা দালালরা কাজ বাগিয়ে নিতে থাকে তৎপর। কম খরচে অল্প সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র করে দেয়ার কথা বলার মধ্য দিয়ের শুরু হয় দালালদের প্রতারণা। আর এই প্রতারণায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিককেই পড়তে হয় বিপাকে।

মহানগরের সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পরিবেশ নিয়ে কাজ করা গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে পরিবেশ দূষণ আমাদের তুলে ধরা দায়িত্ব তবে গুরুদায়িত্ব হলো পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্ম পরিবেশ দূষণ করা দালালদের অনিয়ম তুলে ধরা।’

সমন্বয়ক (সার্বিক) আবুল হোসেন সবুজ জানান, গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কার্যার্থে খুব আন্তরিক কিন্তু দালালদের কারণে তাদের সমালোচনাও কম নয়। সমালোচনা বন্ধে তাদের উচিৎ দালালমুক্ত অফিস গড়া।’

শ্রীপুরের সমন্বয়ক আফজাল হোসেন বলেন,গাজীপুর জেলার মধ্যে শ্রীপুরের দূষণ কোন অংশে কম নয়।দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র গ্রহন করেন।নবায়নের জন্য একটি ফাইল জমা দিয়ে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় অফিসে।অনেকে সহজে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দালালের স্বরনাপন্ন হন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে দালালের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গাজীপুর সদর হাসপাতালের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং গাজীপুর এনভাইরনমেন্ট জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ সালমান জানান, ‘শুনেছি অন্যান্য অফিসে দালাল থাকে কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে দালালদের উৎপাত আসলেই ব্যতিক্রম, এটা দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে প্রধান সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসান জানান, ‘তথ্য রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এখানকার কিছু দালাল রয়েছে এবং কিছু দালাল ঢাকা থেকেও প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করে। এরা প্রকৃতপক্ষে টাউটও বটে। আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর কার্যালয়কে দালালমুক্ত করতে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমাদের যতটুকু করনীয় আমরা করবো। প্রয়োজনে আমরা জেলা প্রশাসকের সাথেও কথা বলব।
তিনি আরো জানান, এই দালালরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেদেরকে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক পরিচয় দিয়ে অবৈধ সুবিধাও নিয়ে থাকে।